Thursday, 9 September 2010

just for save-01

আজ মনটা কেমন যেন। ভালো না খারাপ বোঝা যাচ্ছে না। তবে একটা খারাপ খারাপ আবহ আছে। এর কারন টা বুঝতে পারছি না। কী সেই কারন। ব্যবসা খুব ভালো চলছে না, এই কারন? নাকি সামনের কঠিন বিপদ সংকুল দূর্গম দিন গুলোর কথা ভেবে মন টা খারাপ। আসল কারন না অজানা। তবে একটু গভীর ভাবে ভাবলে হয়তো কারন টা পাওয়া অসম্ভব কিছু না। ও একটা কারন পাওয়া গেছে। মকবুল চাচার পাঁচশ। তার বাসায় যে কাজের মহিলা কাজ করে, তাকে ৫০০ দিতে হবে। এই পাঁচশ টাকা কীভাবে দিব এটা ভেবে মন খারাপ হতে  পারে। আরো অনেক কারন থাকতে পারে। ব্যাবসা মন্দা। আর ঈদের পর এটা ভালো হবে নাকি এমনই থাকবে এটা নিয়ে চিন্তা ও একটা কারন হতে পারে। তবে হঠাৎ হটাৎ উদাস হয়ে যাওয়া আমার অনেক পুরোনো রোগ। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই; এমন প্রায় ই হয়। জীবনে যা করেছি এই এতো কাল তাতে আমার জন্য এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। যাক।

আজ গিয়েছিলাম অপূর্ব ভাই এর ওখানে। নিঃসন্দেহে এটা অনেক বড় একটা ঘটনা আমার জন্যে। অন্তত এখন পর্যন্ত যে হিসেব নিকেষ আমার জীবনে। তবে আমার ক্ষেত্রে শেষ কোন কথা নেই। আমার চিন্তা এবং দর্শন পাল্টায় কয়েক দিন পর পর। সুতরাং আপাত দৃষ্টিতে এটা আমার জন্য একটা বড় ঘটনা হলেও পরে হয়তো দেখা যাবে, এটা মূল্যহীন।

ভবিষ্যতে কী হবে, তা ভেবে কী লাভ। যেখানে আমার চিন্তা এবং ইচ্ছার ই কোন স্থিতিশীলতা নেই। আজ এই তো কাল এই। এটাকে বড় করে দেখলে তো আমার সব কিছুই হয়ে যায়, অর্থহীন।

তাই কোন জটিল ভাবনায় না গিয়ে যদি সরল সমীকরন টানা যায়, তাহলে বলা যাবে, অপূর্ব ভাই এর সাথে গিয়ে দেখা করে আসা এবং সেখানে কাজ করার একটা ব্যাবস্থা করে আসা অনেক বড় একটা ব্যাপার। বর্তমান সময়ের ক্যালকুলেশনে।

অপূর্ব ভাই এর ব্যাপার টা ঠিক বুঝলাম না। আমাকে খুব সহজভাবে সেখানে কাজ করার ব্যাপার টা বলল। মানে প্রথম দিনেই আমাকে খুব ভালো ভাবে না জেনেই সে বলল, আমি কাজ করতে পারব। ঠিক বোঝাতে পারছি না। তবে একটা সমীকরন মিলছে না।

সেখানে উনার মাত্র এক জন স্টাফ আছে। আলামিন। আর কোন পেইড স্টাফ নেই। আর তার কোন ক্যামেরা ও নাকি নেই। কাজ হলে তারা ক্যামেরা ভাড়া আনে। আর কাজ হলে অনেক লোক ও নাকি চলে আসে। আর আল আমিন ছেলেটা ভোদাই। ওকে বেতন দেয়া হয় ৮ হাজার টাকা। ও ইডিয়াসে কাজ করে। আমি বুঝি না। আসলে আলামিন কেই উনি ঠকাচ্ছেন, সুযোগ পেয়ে কম দিচ্ছেন নাকি উনি এমনই কৃপন প্রকৃতির।

যতদূর জানি বা মনে হয়, টাকা পয়সা ওনাদের ভালোই কামানোর কথা। আর গুলশান ২ এ অফিস আর অফিসের ধরন দেখে মনে হলো, না টাকা পয়সা ভালোই কামানোর কথা। এখন যদি এমন হয়, কাজ খুব কম, তাহলে এ ধরমের কৃপনতা কে মেনে নেওয়া যায়। আর যদি এটা তার স্বভাব হয়, তাহলে কোন কথা নেই।

জানিনা, তবে কোথাও একটা সমীকরন মিলছে না। কেন মিলছে না বুঝতে পারছিনা। তবে মাস খানেকের মধ্যেই এটা আমার কাছে ক্লিয়ার হয়ে যাবে। ব্যাপার না।

অপূর্ব ভাই আমার কাজ দেখলেন। ভালো ভাবেই দেখলেন। মানে সব কয়টা ডিস্ক। উনি দেখে বললেন, এ ধরনের কাজ উনাদের এলাকায় চলে না। সেখানে কেমন কাজ হয়, আমাকে তার একটা ক্লিপ দেখালেন। ভালো লাগল। তারপরে স্টিল ছবি দেখালেন। বললেন, তাদের কাজের ধরন টা আলাদা। এতো ইফেক্ট বা এতো কিছু করতে হয় না। সেখানে কাজ ও কম। তবে অনেক যত্ন নিয়ে করতে হয়। মানুষের আবেগ টাকে তুলে আনতে হয়। ভিডিও এডিট করার ক্ষেত্রে তিনি বললেন, মিউজিকের সাথে মিলিয়ে কাজ করতে হবে, যেটা বসে মানে সাগর ভাই করে থাকেন। বসের কয়েকটা কাজ আমাকে দেখতে হবে।

অপূর্ব ভাই আমার সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে চাইলেন। তানভীরের কাছে টাকা উঠানোর ক্ষেত্রে তিনি আমাকে কিছু টিপস দিলেন। তবে সবচেয়ে ভালো লেগেছে, তিনি আমার সাথে খুব ভদ্র ব্যবহার করেছেন। তিনি ক্যাসেট একটা দেখে বলতে পারতেন, এসব চলবে না। তিনি তিনটা ডিস্কই দেখলেন। আবার যখন তার কর্মচারী আলআমিন একটা ক্যাসেট ঢুকালেন, একটু দেখেই ডিস্ক বের করে বললেন, না এসব চলবে না। "অপূর্ব ভাই এর কাছে চলতে পারে, আমার কাছে চলবে না।"

অথচ অপূর্ব ভাই খুব শান্ত শিষ্ট ভাবে আমাকে যা বলার বললেন। ওনার বিহেভিআর এ একটা পূর্নতা আছে। মানে ছক বাধা। তারাহুরো নেই।

উনার স্টীল ইমেজের এডিট মনে হয়, তিনি নিজেই করেন। আমাকে তিনি বললেন, তার এখন ব্যাস্ততার জন্য স্টুডিও তে ছবি তোলা প্রায় বন্ধ আছে। আমি যদি ক্যামেরা কিনি, তাহলে আমি চাইলে সেখানে ফটোগ্রাফি শিখে সেখানে কাজ করতে পারবো।

তিনি আমাকে সময় নিয়ে বোঝালেন, তার ওখানে পার্মানেন্টলি কাজ করলে কী হবে, আর কন্টাকে কাজ করলে কী হবে। পার্মানেন্টলী কাজ করলে বেতন একটু কম। কারন তখন তাকে সারা বছরের হিসেব করতে হয়। আর কাজ তো সব সময় থাকেনা। কাজ হয় সিজনাল। আর কন্টাকে ও কাজ করা যায়। কাজ থাকলে, কাজ ভিত্তিক পেমেন্ট। এখানে পেমেন্ট একটু বেশি। তবে সুযোগ সুবিধা কম।

তিনি বললেন, পার্মানেন্ট লি কাজ করলে টাকা কম থাকলেও সুযোগ সুবিঢা বেশি। যেমন, তিনি বললেন, দশ বছর কাজ করে তিনি যা শিখেছেন, হয়তো আমি সেখানে তা দুই মাসে শিখে বাইরে কাজ করলাম, তাহলে এটাতো তার বিজনেসে লস। কন্টাকে কাজ করলে তার তো কাজ শিখিয়ে কোন লাভ নেই। কারন যে শিখবে সে বাইরে ও কাজ করবে। এ কথা গুলো তিনি যেভাবে বোঝালেন, আমি মুগ্ধ হলাম।

তাকে এক পর্যায়ে যখন বললাম, আপনি মিউজিক ভিডিও এর জন্য   এডিটর খুজছিলেন, তিনি বললেন, বিয়ের কাজের জন্য এডিটর দরকার এ রকম স্টাটাস দিলে, দেখা যেত বিয়ের এডিটর রা চলে আসবে। আর তার দরকার এমন কেউ যারা মিউজিক ভিডিও এর মতো ভিডিও আর গান মিলিয়ে কাজ করবে। মিউজিক ভিডিও এর জন্য লোক এর কথা বললেও তিনি তাকে দিয়ে তো আর মিউজিক ভিডিও এর কাজ করাবেন না। আমি তখন ও মুগ্ধ হয়েছিলাম।

তিনি যখন দেখেছিলেন, আমি গানের মতো গান, আর ভিডিও এর মটো ভিডিও দিয়ে কাজ করেছিলাম, তিনি পরে বলেছিলেন, এখানে শ্যুট করার আগেই পরিকল্পনা করা হয়, কোন ভিডিও টা কিভাবে শ্যুট করা হবে। কোন গান টা ইউজ করা হবে।

No comments:

Post a Comment