দোকানের এডভান্স দেয়ার পর, যখন দেখলাম অপূর্ব তার একজন সহকারি খুজছে, আমি আশান্বিত হলাম, হয়তো আমার হয়ে যাবে। কিন্তু আমি সেভাবে জোর দেইনি, কারন সামনে একটা নতুন দোকান দিচ্ছিলাম। এডভান্স দেয়া হয়েছে অলরেডি। কিন্তু একটা বিষয় মনে হতো, ইস, কেন যে দোকানের এডভান্স দিতে গেলাম। না দিলে আমি এই দোকানের ঝামেলায় জড়াতাম না। হয়তো অপূর্ব এর সাথে একটু আন্তরিক চেষ্টা করে কাজটা জুটিয়ে নিতে পারতাম।
পরে যখন দোকান দিলাম, প্রথম কয়েকদিন অবস্থা ভালো ছিল না। তখন বার বার মনে হতো, ইস কেন যে এই দোকান ডিলাম। তখন আমি কল্পনায় অপূর্ব এর সাথা কাজ করলে কী সুবিধা পেতাম, বা কাজ কীভাবে করতাম সে সব ভাবতাম। জাস্ট মন কে একটু ছেড়ে দিতাম আর আফসুস করতাম। যে টাকা দিয়ে আমি দোকান করলাম, সে টাকা দিয়ে ক্যামেরা কিনে খুব সহজেই আমি অপূর্ব বা মনজুর এর সাথে কাজ টাজ করতে পারতাম। তাদের সাথে লেগে থেকে যদি কয়েকটা দিন বা মোটামুটি এক দেড় বছর কাটাতে পারতাম, হয়তো আমাকে আর পেছনে তাকাতে হতো না।
এ রকম একটা ইলুশ্যনে ভুগতাম সবসময়। আমার মনে হতো, যদি ১০০০০ টাকা দিয়ে অপূর্ব এর কাছে একটা কোর্স করতে পারতাম, পরে তার সাথে লেগে থাকতাম, মানে সে যেখানে কাজে যাবে, তাকে বলতাম, ভাই আমাকে সাথে নিয়ে যান, তার সাথে আঠার মতো লেগে থাকার চেষ্টা করতাম। এভাবে তার আরো কিছু লোকজনের সাথে আমার পরিচয় হতো। তাদের সাথে একটা গুড রিলেশন করতে চেষ্টা করতাম। এর পর আছে মনজুর। তার সাথেও দেখা করতাম। এভাবে তাদের সবাই কে বলতাম, ভাই কোন ফটোগ্রাফার লাগলে ফোন দিয়েন, ব্যাপার টা এরকম যে, আমি জানি, যেকোন লোক যে বিয়ে বাড়িতে কাজ করে, তার হঠাৎ হঠাৎ লোকের অভাব পড়ে। আমি যদি সবাই কে গিয়ে বলে আসতাম, আমাকে ডাকবেন, যদি কোন লোক লাগে, আমাকে অবশ্যই ডাকত। এভাবে কোন না কোন সময়ে অবশ্যই আমি টুকটাক বিজি থাকতাম, যা এক সময় আমাকে নিজের একটা অবস্থান তোৈরি করে দিত। এক সময় আমি নিজেই এ রকম বড় কোন প্রতিষ্ঠান চালাতাম, মানে বড় বড় ফ্যামিলির কাজ পেতাম। হয়তো মিডিয়াতেও কাজ পেতাম। আর এটা কোন ব্যাপার না। যেভাবে আগানোর প্লান করেছিলাম। ওদের পেছনে এক দেড় বছর কুত্তার মতো দিলেই আমি নিজেকে তুলে ধরতে পারতাম।
আরেকটা প্লান করেছিলাম, আমি এবছর ডিগ্রী প্রাইভেট পরিক্ষার জন্য রেজি করবো। আর একটা ক্যামেরা কিনে অপূর্ব মনজুর দের সাথে কাজ করবো। এভাবে বছর খানেক কাজ করার পর, যখন কিছু টাকা পয়সা আসবে, তখন হয় আগে পাঠশালায় তিন বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা কোর্স করবো না হয়, জার্নালিজম এর জন্য অনার্স এ ভর্তি হবো। আর জার্নালিজম শেষে কোন একটা নিউজ পেপারে ভর্তি বা ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হলে সেই ইউনিভার্সিটিতেই টিচার হিসেবে রয়ে যাব। এই ছিল প্লান। মূল কথাটা ছিল এই যে, এ বছর ডিগ্রী, প্লাস ফটোগ্রাফীর উপর ডিপ্লোমা আর জার্নালিজম এর এ্যাডমিশন নিতাম, সুযোগ বুঝে আগে পরে।
এখন এই দোকান নেয়ার ফলে সব প্লান গেল উল্টে পাল্টে। কী রেখে যে কী করি, জানি না। তবে এখন এই দোকান থেকে আমাকে ক্যামেরার টাকাটা ম্যানেজ করতে হবে। পরে সুযোগ সুবিধা মতো কাজে নামতে হবে।
আর যদি অপূর্ব এর কাজটা ম্যানেজ করতে পারি, তাহলে সেখানে চাকরী পাশাপাশি পড়াশোনা করাটা খুব সমস্যা হয়ে যাবে। তবে সেখানে বছর খানেক কাজ করার পর, সুযোগ বুঝে এ্যাডমিশন নিয়ে রাখতে হবে। আর যদি এমন করা যায়, সকালের শিফটে কোথাও ভর্তি হয়ে বিকেলে অপূর্ব এর সাথে কাজ করা যায়, তাহলে তো বেস্ট। আর সব কথার শেষ কথা আমাকে অপূর্ব এর সাথে খুব ভালো একটা সম্পর্ক করে ফেলতে হবে, যাতে আমার নিজের সব ভালো মত আগায়। আর আমার বিশ্বাস আমি তা পারবো।
৩ সেপ্টেম্বর ২০১০
No comments:
Post a Comment